দেশজুড়েপ্রধান শিরোনাম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা না মানায় গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করিনি

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্কঃ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা না মানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যায়নি ঔষধ প্রশাসন। নিয়ম মেনে কাজ করে সফল হলে সরকার তাদের স্বাগত জানাবে।

তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে গণস্বাস্থ্যকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সরকারের কোনো প্রটোকল আজ (সোমবার) পর্যন্ত মেইনটেইন করেনি।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য মিডিয়া সেল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ না করা ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের অসহযোগিতা প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্যের অভিযোগের জবাবে এ সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন মহাপরিচালক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো দেশেই বর্তমানে র‍্যাপিড টেস্ট কিটের অনুমোদন দেয়নি। আর গণস্বাস্থ্যকে টেস্ট কিট নিয়ে আমরা আগেও সহযোগিতা করেছি এখনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ঘুষের বিষয়টি তুলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অনৈতিক কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন ঔষধ প্রশাসনের ডিজি।

তিনি বলেন, কিটের উদ্ভাবক দাবি করেছেন ঔষধ প্রশাসন কখনো ঘুষের বিষয়টি তোলেনি অথচ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঘুষের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ঔষধ প্রশাসন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারিভাবে বারবার পরিদর্শনে গিয়েছে এবং সেজন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সরকারকে একাধিকবার ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা পত্রও পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা যা মুখে বলেছে বাস্তবে সে কাজগুলো করেনি। উল্টো সরকারকে জনসম্মুখে হেনস্তা করতে নানারকম বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সবকিছু ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংবাদ সম্মেলন করে অযাচিত ও কটু মন্তব্য করেছে। যদিও শুরু থেকেই অধিদফতর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মন্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ২৬ এপ্রিল ঔষধ প্রশাসনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল আসে। আমি চাচ্ছিলাম, টোটাল প্রসেসটাকে ফ্যাসিলেটেড করতে, যেন তাড়াতাড়ি হয়। অধিদফতর প্রতিনিধি দলকে অনুমোদন পাওয়ার স্তরগুলো জানায়। নিয়ম অনুযায়ী, একটি কন্ট্রাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রটোকল তৈরি করতে হয়। প্রটোকলে কিটটি কার্যকর কিনা, তার ট্রায়াল কীভাবে হবে, কতজনের ওপর হবে, কত সময়ের মধ্যে হবে, সে বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার (বিএমআরসি) থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, সে সম্পর্কিত মূল্যায়ন হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ট্রায়ালের কাগজপত্র ও বিএআরসির মূল্যায়নপত্র খতিয়ে দেখে বিপণন বা বাজারজাতকরণের অনুমতি দেবে।

ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, রবিবার তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। রেগুলেটরি পাথওয়ে ওনারা পুরোপুরি ফলো করতে চান। তারা বলেন, তারা আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে করবেন। পরে তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করতে চান। আমি বললাম, বিএসএমএমইউ, আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবিতে আপনারা এটি করতে পারেন। আইসিডিডিআরবির গবেষণাগার খোলা থাকার পরও তারা সেখানে পরীক্ষা করতে চান না জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, তখন আমরা বললাম, নয়টি সিআরও আছে, লিস্টটা আমরা দিলাম। আপনারা যেটাতে খুশি করতে পারেন। এভিডেন্স নামের সিআরওতে তারা করাতে চান। আমরা তৎক্ষণাৎ একটা চিঠিও দিয়ে দিলাম। চিঠি নিয়ে ওনারা চলে গেলেন। আমি মনে করেছি, সবকিছুর ফয়সালা হয়ে গেছে, এখন চমৎকারভাবে কাজটা এগোবে। কিন্তু পরে ৪টার সময় তারা সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের কথাবার্তা বলেছেন! আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রটোকল রিভিউর জন্য আমরা ফি পর্যন্ত নিই না। উনি যে অত্যন্ত অবজেকশনাবল একটি কথা বলেছেন, আমরা কি ঘুষ দেব? মহাপরিচালক বলেন, ঘুষের প্রশ্ন এখানে কীভাবে আসে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, কিট ভালো কি মন্দ, তা নিয়ে পরীক্ষার আগে কোনো মন্তব্য করবেন না। তিনি জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সম্মান করেন। আশা প্রকাশ করেন, তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সৌজন্যমূলক আচরণ করবেন।

/আরএম

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close