দেশজুড়ে

করোনার সুযোগে কালিয়াকৈরে সক্রিয় ছিনতাইচক্র

গাজীপুর প্রতিবেদক: করোনার মহামারির শুরু থেকেই কালিয়াকৈরে তিন দলের ভয়ংকর ছিনতাইকারীরা মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত সক্রিয় এই ছিনতাইচক্র। করোনার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ যখন ব্যস্ত, তখন সুযোগ নিয়ে তিনটি দলের ভয়ংকর ১৫-২০ জনের দল ছিনতাইকারীরা।

তথ্য ঘেটে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে গত এক মাসে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। যানবাহন ও পথচারীদের কাছ থেকে নগদ টাকা মালামাল, মোবাইল, স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান জিনিস ছিনতাই করে চম্পট দিয়েছে তারা। এসময় তাদের কবলে পড়ে ছুড়িকাঘাতে প্রাণ গেছে, আবার রক্তাক্তও হয়েছেন কেউ কেউ।

গত ১২ এপ্রিল রাতে রাশেদ মিয়া এক ব্যক্তি বগুড়া যাওয়ার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিয়াকৈরে ছিনতাইকারীর ছুড়িকাঘাতে নিহত হন। এ ছাড়া গত ২৬ মার্চ ভোরে এক প্রাইভেটকার আরোহীকে খাড়াজোড়া গোয়ালবাথান ফ্লাইওভার এলাকায় তিন ছিনতাইকারী প্রাইভেটকারের জানালা দিয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে তার মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পরে এই আহত ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল মারা যান। দুইটি ঘটনাই থানায় মামলা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে কালিয়াকৈর থানা গত কয়েকদিনে ছিনতাইকারী দলের ভয়ংকর পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, উপজেলার চাপাইর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ছিনতাইকারীদের দলনেতা তামিম হোসেন (২৪),একই উপজেলার উত্তর হিজলতলী গ্রামের মাসুম রানার ছেলে ইকবাল হোসেন প্রিন্স (৩০), একই একই উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে মাসুদ (২২), একই উপজেলার আশাপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সজল(২২) ও সুমন মিয়া (৩২) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার কামাফাবাড়ী এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। এদের মধ্যে ইকবাল হোসেন প্রিন্স ও সজল গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্ধিতে ঘটনার সত্যতা  স্বীকার করেছে। অপর ৩ জনকে গাজীপুর জেল হাজতে প্রেরন করেছে পুলিশ।

মুলত ইকবাল হোসেন প্রিন্সকে মটরসাইকেলসহ আটক করা পরই তার দেয়া তথ্য ধরে পুলিশ ভয়ংকর ছিনতাইকারীর লিডার তামিম হোসেনসহ দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

এর আগে গত ১ মে এসআই ভজন চন্দ্র রায় অপর আরেকটি দলের  ভয়ংকর ছিনতাইকারীর সদস্য রাজা মিয়া, রঞ্জু মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। তবে এই তিন ছিনতাইকারী রফিকুল ইসলাম নামের এক প্রাইভেটকার আরোহিকে খুনের কথা  স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানান।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আব্দুল হাকিম ও মনিরুজ্জামান মনির জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কে ছিনতাইতাই করে আসছিলো। নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের মুল্যবান জিনিসপত্র ভয়ভীতি দেখিয়ে লুট করে নিয়ে যেত। একটি মোটর সাইকেল ছিনতাই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলাকার তিনটি দলের মধ্যে দুইটি দলের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর সদস্য আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে, গত ৪ এপ্রিল মোটরসাইকেল করে নাটোর থেকে কোনাবাড়ী যাওয়ার সময় রাত সোয়া আটটার দিকে খাড়াজোড়া রেলওভার ব্রীজে পৌছায়। সেখানে পৌছা মাত্র অপর একটি মোটর সাইকেলে তিনজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল গতিরোধ করে চালকের গলায় ধারালো চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিল ঘুষি ও থাপ্পর মেরে মটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, করোনার কারণে পুলিশ মানুষকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ছিনতাইকারীরা তৎপর হয়ে উঠে। আমরা দুইটি গ্রুপের আট সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। ওই সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close