দেশজুড়ে

করোনায় মৃতদের সৎকার;তিন মাস শ্মশানে

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক: করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির মরদেহ সৎকার করায় পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে দেয়নি। পুরো তিন মাস তাকে থাকতে হয়েছে শ্মশানের মন্দিরে।

করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৯৬ জন করোনা আক্রান্তের মরদেহ সৎকার করেছেন নারায়ণগঞ্জের টনি ডোম। যার ফলে প্রথম তিন মাস রনিকে বাড়িতে ঢুকতে না দিলেও পরে তার এই মহৎ কাজে সহায়তা করেছেন তার স্ত্রী ও ৩ ভাই। কিন্তু নিভৃতে এমন মহৎ কাজ করে যাওয়া টনি ডোম পাননি কারও সহায়তা। তিনি রয়ে গেছেন লোক চক্ষুর আড়ালে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর তাঁতীবাজারে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তবে ওই ব্যক্তির মরদেহ সৎকারের জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। পরে সৎকার করতে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় শ্মশানে নিয়ে গেলে রাজি হন টনি ডোম। গত দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শ্মশানে প্রায় ৬শ মরদেহ দাহ করেছেন টনি।

স্থানীয়রা জানান, তিনি একাই সব কাজ করেছেন। নিহতের স্বজনেরা কেউ কাছে না আসলেও টনিই সব কাজ করেছেন। নিজের পরিবার ছেড়ে শ্মশানেই কাটিয়েছেন অনেকটা সময়।

কৃতজ্ঞতা পাওয়ার আশায় কাজ করেন না জানিয়ে টনি ডোম জানান, এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই তার। তিনি বলেন, ‘করোনার প্রথম দিকে অনেক মরদেহ সৎকার করেছিলাম, তখন আমার পরিবারের সদস্যরাও আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। জ্বর-ঠান্ডায় অনেকে মারা গেলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে ছুঁয়েও দেখেনি। তখন আমি নিজে মরদেহগুলোকে গোসল করিয়ে তাদের সৎকার করেছি।
/একে

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close