ব্যাংক-বীমাশিল্প-বানিজ্য

দুর্নীতি রোধে নগদ অর্থের লেনদেন কমানোর সিদ্ধান্ত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্কঃ ঘুষ, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে নগদ অর্থ লেনদেনের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সমন্বয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এটি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে অনলাইনভিত্তিক লেনদেন উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ বের হওয়ার পর লেনদেনের কোনো রেকর্ড থাকে না।

ফলে ওইসব অর্থ কিভাবে কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে তার কোনো তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা যায় না। এ কারণে দুর্নীতির একটি বড় অংশ সম্পন্ন হচ্ছে নগদ অর্থের মাধ্যমে। অনলাইনভিত্তিক লেনদেন চালু হলে সব ক্ষেত্রেই এর রেকর্ড থাকবে। এর মাধ্যমে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা মানি লন্ডারিং হলে অনুসন্ধান করে এর সূত্র বের করা সম্ভব। অর্থ লেনদেনের রেকর্ড থাকে বলে অপরাধ প্রবণতাও কমে যাবে।

এছাড়া নগদ লেনদেন কমানো হলে নগদ টাকা ছাপানো, এর পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা বাবদ খরচ যেমন কমবে, তেমনি কমবে ঝুঁকির মাত্রাও। নগদ অর্থ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনাও বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করে। মাঝে মধ্যেই দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে নগদ টাকার সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদের সময় এ ঘটনা বেশি ঘটে। নোট জাল কারবারিদের দৌরাত্ম্যও কমানো সম্ভব হবে। এতে সার্বিকভাবে অর্থনীতি উপকৃত হবে।

এদিকে সমন্বয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি অঙ্কের বেশি লেনদেন হলেই তা অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে। ওই অঙ্কের নিচে হলে নগদ আকারে করা যাবে। এখন নির্দিষ্ট অঙ্কটি ঠিক করার ব্যাপারে একটি কমিটি কাজ করছে। ওই অঙ্ক নির্ধারিত হলে এর বেশি অর্থ অনলাইনের মাধ্যমে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট, এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংসহ অনুমোদিত বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে স্থানান্তর করা যাবে। তবে সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট খাতের বিধি মেনে করতে হবে।

বর্তমানে নগদ লেনদেন করার সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। ফলে যে কোনো অঙ্কের অর্থই নগদ লেনদেন করা যায়। এ কারণে বড় অঙ্কের লেনদেন হলে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়।

সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১০ লাখ টাকার বেশি নগদ লেনদেন হলেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানাতে হয়। এ ধরনের লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ ধরনের লেনদেন থেকে দেখা যায়, ৮৮ শতাংশই হচ্ছে ব্যক্তির হিসাবে। বাকি ১২ শতাংশ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে। অর্থাৎ ব্যক্তি হিসাবেই নগদ লেনদেন বেশি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সব দেশই এখন লেনদেন কমিয়ে ইলেকট্রনিক বা প্লাস্টিক মানিতে (নগদ টাকা ছাড়াই কার্ড বা অনলাইনে ইলেকট্রনিক ফর্মে) লেনদেন বাড়াচ্ছে। এতে একদিকে ঝুঁকির মাত্রা কমছে, অন্যদিকে অপরাধ সংঘটনে অর্থের ব্যবহার প্রবণতাও কমবে। কেননা এ ধরনের লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোনো অর্থ দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে তার সঙ্গে জড়িতদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close