দেশজুড়েপ্রধান শিরোনাম

বাংলাদেশে চীনের করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমোদন

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক: এই প্রথম চীনের একটি ভ্যাকসিনকে বাংলাদেশে ফেজ থ্রি ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআর,বিকে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ বিএমআরসি।

আইসিডিডিআর,বি-এর অনুমোদনের জন্য আবেদন করার পর দেশে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়।

করোনা ভাইরাসের এ ভ্যাকসিনটি প্রাথমিকভাবে সরকারি ৮টি কোভিড হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। মোট ২ হাজার ১০০ জনের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে।

বিএমআরসির পরিচালক মাহমুদ উজ জাহান জানান, ‘চীনের সিনোভেক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির তৈরি টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য আইসিডিডিআরবি আমাদের কাছে প্রটোকল জমা দিয়েছিলে। ন্যাশনাল রিসার্চ এথিকস কমিটি নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। কমিটি এর নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। এখন তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা করবে, তাদের প্রশাসনিক অনুমোদন নেবে।’

মাহমুদ উজ জাহান জানান, বিএমআরসির কাছে আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে যে প্রটোকল দেওয়া হয়েছে, তাতে ৪ হাজার ২০০ জনের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে।

ডা. জাহান বলেন, তবে ৪ হাজার ২০০ জন টিকা পাবেন না। এঁদের মধ্যে অর্ধেক টিকা পাবেন, অর্ধেক পাবেন না। এটাই গবেষণার নিয়ম।

এর আগে সবাইকে ছাড়িয়ে করোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। গত ২৯ জুন ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের (৬১৮৫.এইচকে) তৈরি একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে।

তবে আপাতত ভ্যাকসিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহার করা হবে। স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অফ মিলিটারির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে যে ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল দেয়া হচ্ছে সেটি চূড়ান্ত সফল হলে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য চীন সফলভাবে কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে যাবতীয় সহযোগিতা ও সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেবে দেশটি। এমনটাই জানিয়েছেন চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান।

গত ২১ জুন ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান জানান, বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close