বিশ্বজুড়ে

চাকরি বাঁচাতে জরায়ু কেটে ফেলছেন হাজারো নারী

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক: গ্রামের পর গ্রাম খুঁজে একজনও নারী পাবেন না, যার জরায়ু আছে। বয়স ধরুন ২০ থেকে ২২, দুই বা তিন সন্তানের মা। সবাই নিম্ন আয়ের শ্রমিক। মাসিক হলে মালিকের নানা গঞ্জনা শুনতে হয়, বেতন কাটা যায়। জরিমানা হয়। তাই পেটের তাগিদে, অভাবের তাড়নায় অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দেন এই দরিদ্র নারী শ্রমিকরা। বিবিসি

জরায়ু কেটে ফেলা মানে একজন নারীর শরীরটাকে তচনচ করে দেয়া। জরায়ু কেটে ফেললে সেই নারী শারীরিক যন্ত্রণা যত না ভোগ করেন, তার চেয়ে মানসিক যন্ত্রণা কোন অংশেই কম না। কিন্তু এই অসভ্যতা, পাশবিকতা কেনও ঘটছে? ভারতের কর্মজীবী নারীদের একটা বড় সমস্যা, পিরিয়ড। এই কর্মজীবীদের মধ্যে তারাই পিরিয়ড নিয়ে বিব্রত, যারা মূলত শ্রমিক। কোন চিনিকলের অফিসার পদে থাকা নারীর মাসিক ঋতুচক্র কর্মস্থলে তাকে সামান্য হলেও বিব্রত করে। কারণ ভারতের মানুষ সেই সভ্যতার শুরু থেকেই পিরিয়ডের সময়টাতে নারীকে অস্পৃশ্য অশুচি বলে গণ্য করে।

এত কম বয়সে এই মেয়েগুলো মা হওয়ার যোগ্যতা হারায়, ভাবতে অবাক লাগে। শুধু কি অবাক? যন্ত্রণা, লজ্জা, গ্লানি এসে ভোর করে বিবেকবান ও সুস্থ মানুষের মনে। জরায়ু ফেলে দেয়ার এই জঘন্য কাজ চলছে প্রায় তিন বছর ধরে। যারা এই অপারেশন করিয়ে নিচ্ছেন, তারা কৃষি শ্রমিক। ক্ষেত থেকে আখ কাটেন। মহারাষ্ট্র ভারতে আখের উর্বর ক্ষেত্র। বছরে ৬ মাস এসব আখখেতে কাজ করতে আসেন হাজার হাজার শ্রমিক। এই নারীপুরুষরা একটানা ছয় মাস আখ কাটার কাজ করেন। আখ কাটার ঠিকাদাররা এক কোথায় মানুষরূপী জানোয়ার, এরা নানা ছুতায় বিভিন্ন কায়দায় এই শ্রমিকদের ওপর শোষণ নির্যাতন চালায়।

পাশবিক্ এই আচরণের আরেক উদহারন দেখা গেছে তামিল নাড়ু রাজ্যে।সেখানের কাহিনী আরও ভয়াবহ। কোটি ডলারের গার্মেন্টস বানিজ্য, বিশাল বিশাল কারখানা। অনেক মেয়ে কাজ করে। পিরিয়ডের সময় কাহিল লাগে অনেকের, অনেকের পেইন হয়, সেক্ষেত্রে তাদের যেখানে এক বা দুদিন ছুটি দেয়া উচিত, তা দূরে থাক, উল্টো করে কী, ব্যথা কমানোর জন্য নাম না জানা ওষুধ খেতে দেয়। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে। তারা কথা বলেছে ভুক্তভোগী ১০০ জনের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, নাম না জানা ওষুধ সেবনের পর সবারই কমবেশি শারীরিক সমস্যা হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতের রাষ্ট্র যন্ত্র। ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন বলেছে, মহারাষ্ট্রের অবস্থা বেদনাদায়ক। এই সব নৃশংসতা বন্ধ করতে বলেছে কমিশন। এই প্রেক্ষিতে তামিল নাড়ু সরকার বলেছে, পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মনিটর করবে। ভারতের নারী শ্রমিকদের এইসব কষ্ট অপমানের কথা প্রকাশ হল এমন সময়, যখন সারাবিশ্বে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জোর প্রস্তুতি চলছে। এখানে যেটা লক্ষণীয়, ভারতে কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা কমে আসছে। ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৩৬ শতাংশ, সেটি ২০১৫-১৬ বছরে কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close