প্রধান শিরোনামবিনোদন

জন্মদিনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি “চিত্রনায়ক ফারুক”

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্কঃ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মিয়া ভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুক অসুস্থ হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত রোববার প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

খবরটি নিশ্চিত করে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, হাসপাতালে দুইবার করোনা টেস্ট করা হয়েছে। প্রতিবারই রিপোর্টে নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু জ্বরটা কোনোভাবেই কমছে না। শরীরটা এখনো গরম রয়েছে। তবে আগের তুলনায় এখন কিছুটা ভালো লাগছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে চিত্রনায়ক ফারুকের জন্মদিন আজ। জন্মদিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার সময়ে কিছু করার নেই। এছাড়া আমি কখনো নিজের জন্মদিন উদযাপন করি না। কারণ এই আগস্ট মাসে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। যে মাসে মহান মানুষটিকে হারিয়েছি, সে মাসে আনন্দ করতে আমার মনও টানে না। তাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে আমি জন্মদিন উদযাপন করি না।

চিত্রনায়ক ফারুক ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আজগার হোসেন পাঠান। এ নায়কের পারিবারিক নাম আকবর হোসেন পাঠান। তার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল পুরান ঢাকায় কেটেছে। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আকবর হোসেন পাঠান।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আকবর হোসেন পাঠানের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। চলচ্চিত্র অঙ্গনে ফারুক নামে পরিচিতি পান তিনি। ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ দুটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

এরপর ১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ দুটি ব্যবসা সফল ও আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সে বছর ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত সিনেমা সূর্যগ্রহণ, মাটির মায়া ও নয়নমনি। আর চলচ্চিত্রগুলো তিনটি বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। পরের বছর শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘সারেং বৌ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘সারেং বৌ’ ও আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

এ চলচ্চিত্র দুটি নারীকেন্দ্রিক হলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ১৯৭৯ সালে তার অভিনীত নাগরদোলা, দিন যায় কথা থাকে, কথা দিলাম, মাটির পুতুল, সাহেব, ছোট মা, এতিম, ঘরজামাই চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসা সফল হয়।

১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ সিনেমায় শাবানার বিপরীতে শহুরে ধনী যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। ১৯৮৭ সালে মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে মিয়া ভাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬-তে তাকে আজীবন সন্মাননা দেয়া হয়। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী।

স্কুল জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন চিত্রনায়ক ফারুক। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে যোগ দেন। ওই সময় তার নামে প্রায় ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। কিংবদন্তি অভিনেতা ফারুক বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন ছিলেন। তাই শোকের মাসে নিজের জন্মদিন পালন করেন না তিনি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের এমপি নির্বাচিত হন দেশীয় চলচ্চিত্রের মিয়া ভাই।

/এন এইচ

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close