দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলের কৃষকের স্বপ্ন দুল খাচ্ছে ধানের শীষে

টাঙ্গাইল প্রতিবেদকঃ চার দিকে দিগন্তজোড়া গ্রামীন মাঠ জুড়ে আবাদ হয়েছে ধান। চারদিকেই সবুজের সমারোহ। ধানের চারা থেকে বের হয়েছে শীষ দুল খাচ্ছে বাতাসে। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধের সুবাতাস বইছে। ধানের গাছের ফলন দেখে মন ভরে ওঠেছে উপজেলার কৃষকদের।

এবছর চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। সরকারীভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের। কিছু কিছু কষকেরা ধান ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা  প্রতিনিয়তই মাঠে গিয়ে কৃষকদেরকে দিচ্ছেন নানা পরামর্শ। তবে বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকেই সবুজ ধানের আবাদে মাঠ ভরে উঠেছে ধান। তবে কাঁচা ধানের মাঠ জুড়ে দোলছে ধানের শীষ। এদিকে কিছু কিছু ধানে শীষে ধান আসতে শুরু হয়েছে। অবার অন্যদিকে, কৃষকেরা পোকা দমনে ফসলের ও মানব দেহের ক্ষতিকারক রাসয়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে পাচিং পদ্ধতি শুরু করছে তারা। ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা দমনে পোকা খাদক পাখি পাচিংয়ে বসে মাঝে মাঝে লাফিয়ে লাফিয়ে ধরছে আর খাচ্ছে ক্ষতিকর পোকা।

বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক হাবীবুর রহমান ও মাহেদুল হাসান দিলন বলেন, ‘গত বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর উন্নত জাতের ধান জমিতে চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে গতবারের তুলনায় এবার বেশী ফলন পাব বলে আশা করছি।’

অপর এক কৃষক নুরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা দিয়ে সহযোগীতা করছে। ৪৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। ধানের গাছ ও শীষের অবস্থা ভালো দেখা যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছে।’ গত বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় উপজেলার কৃষকদের ধান চাষে আগ্রহ  বেড়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম ও মিলন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার ও বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করতে আমারা উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তারা নিয়মিত ভাবে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ফসলে ¶তিকর পোকা দমনে কৃষকদের পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার বোরো ধানের আবাদ এবার খুবই ভালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষক মাঠ দিবসের মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কৃষকদের আরও সচেতন করা হবে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। যেন কৃষকেরা অধিক লাভাবান হতে পারেন। কৃষকের পাশে আমরা সব সময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আগামী দিনেও কাজ করে যাব।

ঢাকা অর্থনীতি/এন এইচ

Related Articles

Leave a Reply

Close
Close